মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস ও ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে। গত শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি দাম কমেছে। এতে সপ্তাহজুড়ে দরপতনের মুখে পড়েছে জ্বালানি পণ্যটি। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা ২ দশমিক শূন্য ৫ ডলার কমেছে। ব্যারেলপ্রতি দাম নেমে গেছে ৭৪ ডলার ৪৩ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ দশমিক শূন্য ৮ ডলার বা ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের দাম ৭০ ডলার ৪০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সময় আগের সপ্তাহের তুলনায় ব্রেন্টের দর দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। আর ডব্লিউটিআইয়ের দর কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ।
নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা অ্যাগেইন ক্যাপিটালের অংশীদার জন কিলডাফ বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। ফলে বাজারে ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে।’
এদিকে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষকরা বাদুড় থেকে নতুন একটি করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সংবাদ প্রকাশের পর পরই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পরিশোধনাগারগুলোয় মৌসুমি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিশোধনের হার কমে গেছে। এতে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়েছে।
এনার্জি সার্ভিসেস ফার্ম বেকার হিউজেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা চার সপ্তাহ ধরে নতুন জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসকূপ থেকে উত্তোলন শুরু হয়েছে, যা গত বছরের জুনের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। কূপের সংখ্যা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চারটি বেড়ে মোট ৫৯২-এ দাঁড়িয়েছে। কূপ সংখ্যা ভবিষ্যৎ উত্তোলনের একটি প্রাথমিক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা হলেও দরপতন সীমিত করেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের (সিপিসি) একটি পাম্পিং স্টেশনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর পাইপলাইনটির মাধ্যমে সরবরাহ ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেছে। স্টোনএক্সের বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোডস জানান, এ ঘটনা সপ্তাহজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অধিক দরপতন ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে কাজাখস্তানের তেঙ্গিজ তেলক্ষেত্র থেকে সিপিসি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে।
শিল্প সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাশিয়ার সিপিসি রুটে ক্ষতির পরও কাজাখস্তান রেকর্ড পরিমাণ উত্তোলন করেছে। তবে দেশটি কীভাবে এত বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।